বাংলাদেশের সংস্কার, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা করতে আজ বুধবার ঢাকা আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দুই শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি নিকোল অ্যান চুলিক এবং পূর্ব এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যান্ড্রু আর হেরাপ আজ ঢাকা পৌঁছাবেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম তাঁর সরকারের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফরে আসছেন। সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সহায়তা নির্ধারণ করা।
চার দিনের সফরে নিকোল অ্যান চুলিক সংস্কার কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ও গণতান্ত্রিক পথে বাংলাদেশের ফেরার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করবেন। তিনি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গেও তাঁর আলাদা বৈঠক হবে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুলিক বর্তমানে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হলেও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির পদটি শূন্য থাকায় তিনিই পুরো বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি জানতে চাইবেন, সংস্কারে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দেওয়ার বিষয়টি এবং মানবাধিকার ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “১/১১-এর সময় সংস্কারে জোর না দেওয়াটা মার্কিনিরা ভুল মনে করে। তারা মনে করে, সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগী ভূমিকা রাখতে পারে।”
অন্যদিকে, অ্যান্ড্রু আর হেরাপের সফরের মূল এজেন্ডা হবে মিয়ানমার পরিস্থিতি। তাঁর সঙ্গে মিয়ানমারে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সুসান স্টিভেনসনও এই সফরে থাকবেন। হেরাপ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং হাই রিপ্রেজেন্টেটেটিভসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, মিয়ানমারে চলমান অস্থির পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল (ইন্ডো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি বা আইপিএস)-এর বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, দেশটির অধিকাংশ এলাকায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। সেখানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সামরিক বাহিনী একযোগে মাদক চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, অপহরণ এবং মানবপাচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও মিয়ানমারে গড়ে ওঠা এসব অপরাধ চক্র এখন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া, বিভিন্ন দেশের অপরাধী চক্র মিয়ানমারের মাটিকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।
ঢাকায় মার্কিন কূটনীতিকদের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের আগামী দিনের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী হতে পারে—তা নির্ধারণে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র: সমকাল
জিও নিউজ ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর