অমিত শাহ কোনোদিন প্রধানমন্ত্রী হবেন না: মমতা

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক ইমাম-মুয়াজ্জিন সম্মেলনে তিনি বলেন, “আপনি কোনোদিন প্রধানমন্ত্রী হবেন না। মোদীজির প্রধানমন্ত্রিত্ব গেলে আপনার কী হবে? আপনাকে তো হামাগুড়ি দিতে হবে।”

সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, “আমি মোদীজিকে অনুরোধ করছি, ওই লোকটাকে নিয়ন্ত্রণ করুন। একটা লোকের হাতে সব এজেন্সি। যেমন পারছে ব্যবহার করছে।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি অন্ধ সমর্থন ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মমতা তার বক্তৃতায় ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ নিয়েও মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের পরিস্থিতি আপনি জানেন না? এত তাড়াহুড়ো করার কী দরকার ছিল?” এ সময় তিনি অভিযোগ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা রাজ্য হওয়ায় এখানে যে কোনো অস্থিরতা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে।

এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, “আপনি ইউনূসের (বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস) সঙ্গে গোপনে চুক্তি করছেন। দেশের ভালো হলে করতেই পারেন, কিন্তু বিষয়টা পরিস্কার নয়।”

সম্মেলনে উপস্থিত মুসলিম সমাজের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, “এক বছর ধৈর্য ধরুন। দিল্লিতে অনেক পরিবর্তন হবে। নতুন সরকার হলে আশা করি হামাগুড়িবাবু ঢুকবেন না।” মমতার এই মন্তব্যে আগামী নির্বাচনে বিজেপি সরকারকে হটানোর আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল লোকসভা ও ৩ এপ্রিল রাজ্যসভায় সংশোধিত ওয়াক্ফ বিল পাস হয়। এরপর ৫ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাতে স্বাক্ষর করলে ৮ এপ্রিল থেকে এটি আইনে পরিণত হয়।

এই আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা যেমন মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও নদীয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিজেপি-বিরোধী দলগুলো এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভের মাঝে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে, যেখানে একাধিক মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য দেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি তার এই সরাসরি আক্রমণ পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে, সংশোধিত ওয়াক্ফ বিলকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার

Leave a Reply