যে স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো নারীদের নিয়মিত করা দরকার!

নারীদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে প্রয়োজন সচেতনতা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা। সময়মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট করালে অনেক রোগ আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব, এমনকি প্রতিরোধও করা যায়। নিচে উল্লেখযোগ্য কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা বলা হলো, যেগুলো নারীদের নিয়মিত করা উচিত নিজের সুস্থতা নিশ্চিত করতে।

প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট

নারীদের জরায়ু মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি। ২১ বছর বয়স হওয়ার পর থেকে অন্তত প্রতি তিন বছর অন্তর এ টেস্ট করানো জরুরি। নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার হওয়ার আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

স্তন পরীক্ষা

স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে নারীদের মাসে অন্তত একবার নিজে নিজেই স্তন পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে যাদের পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, ৪০ বছর বয়স পার হলে নিয়মিত ম্যামোগ্রাম করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ম্যামোগ্রামের মাধ্যমে স্তনের ভেতরে কোনো অস্বাভাবিকতা আগে থেকেই ধরা সম্ভব।

হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা

মেনোপজের পর নারীদের হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এই সময়ে হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষার মাধ্যমে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা চিহ্নিত করা যায়। তাই নিয়মিত এ টেস্ট করানো দরকার, যাতে আগেভাগে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়।

থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট

হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকাল নারীদের মধ্যে থাইরয়েডজনিত সমস্যা বাড়ছে, যা ওজন বেড়ে যাওয়া, ক্লান্তি, চুল পড়া কিংবা মানসিক উদ্বেগের মতো সমস্যার জন্ম দিতে পারে। তাই নিয়মিত থাইরয়েড পরীক্ষা করিয়ে রাখা ভালো।

নারীদের সুস্থতায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা অপরিহার্য

শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণ বা ব্যায়াম নয়, নারীদের সুস্থতার জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো করা। প্যাপ স্মিয়ার থেকে শুরু করে রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্তন পরীক্ষা বা থাইরয়েড—এই প্রতিটি পরীক্ষা আপনার জীবনের জন্য একেকটি সুরক্ষা বর্ম। নিজেকে ভালো রাখতে, সুস্থ রাখতে আজই সময় বের করুন এই পরীক্ষাগুলো করানোর জন্য।

সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন—কারণ সচেতনতাই হলো নারীর সত্যিকারের আত্মরক্ষা।

তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

Leave a Reply