প্রতিদিন আলু খেলে স্বাস্থ্যের যে ক্ষতি হয়

বাংলাদেশের ঘরে ঘরে আলু যেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তরকারি, মাংস, মাছ, ডিম কিংবা আলাদা করে ভাজা—প্রায় সব রান্নাতেই আলু থাকে। লুচি-আলুভাজা, আলুর দম, সেদ্ধ ভাতের সঙ্গে আলু ভর্তা—এসব খাবারে আলু যেন স্বাদ বাড়ায় দ্বিগুণ। তবে এই অতিরিক্ত ভালোলাগার মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি।

প্রতিদিন অতিরিক্ত পরিমাণে আলু খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অনেকেই জানেন না, এই স্বাদবর্ধক সবজি অতিরিক্ত খাওয়া শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে। আজকের প্রতিবেদনে জেনে নিন প্রতিদিন আলু খাওয়ার অভ্যাসে শরীরের কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আলুতে রয়েছে উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স, যা শরীরে ব্লাড সুগারের মাত্রা হঠাৎ করে বাড়িয়ে দিতে পারে। ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এমনকি যাদের ডায়াবেটিস নেই, তারাও যদি অতিরিক্ত পরিমাণে আলু খান, তাহলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সতর্কতা হিসেবে আলুর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।

আলুতে থাকে প্রচুর স্টার্চ, যা হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। প্রতিদিন অনেকটা পরিমাণে আলু খেলে বদহজম, গ্যাস, পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি আরও বেশি বিপজ্জনক। এছাড়াও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও বেড়ে যেতে পারে।

প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে আলু খেলে শরীরে অন্যান্য পুষ্টিগুণের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কারণ, আলু বেশি খাওয়ার ফলে শরীর অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঠিকমতো শোষণ করতে পারে না। এর ফলে দেহে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।

আলুতে রয়েছে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালরি। অতিরিক্ত আলু খাওয়ার ফলে শরীরে বাড়তি ক্যালরি জমতে থাকে, যা ওজন বাড়ানোর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য আলুর পরিমাণে রাশ টানা অত্যন্ত জরুরি।

অনেকেই প্রতিদিন আলুভাজা বা আলুর চিপস খান। আবার অনেক পরিবারে আলু দিয়ে তৈরি নানা ভাজাপোড়া পদ তৈরি হয় নিয়মিত। এই ধরনের খাবার নিয়মিত খেলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বেড়ে যায়। তাই এসব খাবার থেকে দূরে থাকাই ভালো।

আলু খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি অতিরিক্ত খেলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আলুর ব্যবহার সীমিত রাখা উচিত। স্বাস্থ্য সচেতনভাবে খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে অনেক শারীরিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র: এবিপি লাইভ

Leave a Reply